স্টাফ করেসপন্ডেন্ট।।ক্যাপিটালমার্কেট২৪.কম

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২০

বিএনপির মহাসচিব হচ্ছেন মেজর হাফিজ!

ঢাকা: মহাসচিব ফখরুলের কাঁধ থেকে ভার সরিয়ে বিএনপির মহাসচিব করা হচ্ছে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে। বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় র্কাযালয় ও গুলশানের চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয় এলাকায় নেতাকর্মীদের জমায়েতে কান পাতলে ইদানিং এমন গুজবই শোনা যাচ্ছে।

প্রতিবেশি দেশের সাথে ভাল সম্র্পক, মুক্তিযোদ্ধা ,দলেও গ্রহনযোগ্যতা আছে এমন একজন নেতা খুজছেন দলটির নীতিনির্ধরকেরা। এর পরপরই এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে। কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত এখন একটাই আলোচনা, সত্যিই কি মহাসচিব হচ্ছেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ?

শারীরিক অসুস্থতা, করোনা পরিস্থিতি ও সরকারের শর্ত, সবমিলিয়ে খালেদা জিয়ার শিগগিরই রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্কাইপির মাধ্যমে দল চালাচ্ছেন। আর সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হচ্ছে মির্জা ফখরুলকে। এরই মধ্যে দলের ভেতরে ও বাইরে বহুবার মহাসচিব বদলের গুঞ্জন উঠেছে। কিন্তু সেসব গুঞ্জন বাস্তব হয়নি। এবার দলের স্বার্থে মহাসচিব পদে পরিবর্তন চান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার সিদ্ধান্তে বেগম খালেদা জিয়াও একমত বলে জানাগেছে।

মহাসচিবের সম্ভাব্য তালিকায় অবশ্য নাম আছে আরও কয়েকজনের, তবে মেজর (অব.) হাফিজের নামটাই আলোচনা হচ্ছে বেশি। আরো যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে আমির খসরু মাহমুদের নাম আসলেও তাইওয়ানে কনসুলার অফিস খোলার পিছনে তার হাত থাকায় চিন পন্থিরা এ ব্যাপারে মত দিচ্ছে না বলে সুত্র জানায়। ফলে আমির খসরু মাহমুদ মহাসচিব পদ পাচ্ছে ন না এটা প্রায় নিশ্চিত। এদিকে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর নামও শোনা যাচ্ছে দলের অন্ধর মহলে।

মহাসচিব পদে বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমান খাঁটি মুক্তিযোদ্ধা, প্রবীণ রাজনৈতিক, শারীরিকভাবে সুস্থ, দলের মধ্যে ভালো অবস্থান আছে, সাহসী ও সর্বোপরি প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে ভালো সর্ম্পক আছে এমন একজনকেই খুঁজছেন বলে জানালেন সম্প্রতি লন্ডন ঘুরে আসা বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতা।

তিনি বলেন, একই সঙ্গে দল ও দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য এমন ব্যক্তিত্বকেই আগামী কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের সেনাপতি করতে চান খালেদা জিয়া। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানেরও এতে সমর্থন রয়েছে বলে জানান তিনি।

অবশ্য সংস্কারপন্থিদের সঙ্গে মেলামেশার বদনাম আছে মেজর (অব.) হাফিজের বিরুদ্ধে। এ প্রসঙ্গে বিএনপির ওই নেতা বলেন, ওয়ান ইলেভেনের কথা ভুলে গিয়ে বর্তমানে সরকারের জুলুম অত্যাচার থেকে দলের নেতাকর্মীদের বাঁচাতে ও দলকে ক্ষমতায় আনতে এমনই একজন নেতা দরকার বিএনপি’র। যার দলের ভেতরে, অন্য রাজনৈতিক দলের কাছে এমনকি প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা আছে।

ঢাকা বিশ্বদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে পূর্ব পাকিস্তান তথা পাকিস্তানের একজন নামকরা ফুটবলার হিসেবে পরিচিত ছিলেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। ১৯৬৪ সালে মোহামেডানের খেলোয়াড় হিসাবে সুনাম অর্জন করেন তিনি। ১৯৬৭ সালে তিনি ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় দলের খেলোয়াড়।

১৯৬৮ সালে সেনাবাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার পদে যোগ দিয়ে ক্যাপটেন থাকা অবস্থায় সরাসরি স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেন হাফিজ। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য পান বীরবিক্রম উপাধি। বেশ কয়েকবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি মন্ত্রীও ছিলেন কয়েকবার।

হাফিজ উদ্দিন মহাসচিব হচ্ছেন কি না? বিষয়টি জানতে বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি কোনো নেতাই।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নেতা বলেন, মহাসচিব মেজর (অব.) হাফিজ হলেই ভালো হয়। তিনি মহাসচিব হলে তা দলের জন্য ভালো সিদ্ধান্ত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বিএনপির ৭ জন নেতা মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা হলেন- প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (১৯৭৮-৮৬), দ্বিতীয় মহাসচিব কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান (১৯৮৬-১৯৮৭), তৃতীয় মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমান (১৯৮৭-১৯৮৮), চতুর্থ মহাসচিব ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার (১৯৮৮-১৯৯৬), পঞ্চম মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া (১৯৯৬-২০০৭), ষষ্ঠ মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন (২০০৭-২০১১), সপ্তম ও বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (২০১১- ২৯ মার্চ ২০১৬ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত এবং ৩০ মার্চ ২০১৬ থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত)। দলটির অষ্টম মহাসচিবের দায়িত্ব কে পাবেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।।