স্টাফ করেসপন্ডেন্ট।।ক্যাপিটালমার্কেট২৪.কম

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০

রেড জোনে ১০ আর্থিক প্রতিষ্ঠান

অনিয়ম-দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনায় নাজুক দেশের ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো (এনবিএফআই)। এ খাতের ১০ প্রতিষ্ঠান এখন সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতিতে অর্থাৎ ‘রেড জোনে’ অবস্থান করছে। চাপ সহনশীল (স্ট্রেস টেস্টিং) প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ জোনে স্থান দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সংশ্নিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমোদন নিয়ে ৩৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাচ্ছে। খেলাপি ঋণ, প্রভিশন সংরক্ষণ, মূলধন পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন সক্ষমতা বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাল, হলুদ ও সবুজ তালিকাভুক্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বর্তমানে হলুদ তালিকায় রয়েছে ১৯টি প্রতিষ্ঠান। মাত্র ৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে সবুজ বা সবচেয়ে ভালো তালিকায়। লাল তালিকা হচ্ছে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে লাল, হলুদ ও সবুজ অঞ্চলে থাকা কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

এবিষয়ে দেশের প্রথম সারির আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফিনান্স কোম্পানি (আইআইডিএফসি) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম সরোয়ার ভূঁইয়া অর্থসূচককে বলেন, বর্তমান সময়টা আর্থিক খাতের জন্য একটি ক্রান্তিকাল। পিপলস দুর্ঘটনার পর নন-ব্যাংকিং আর্থিক খাতের উপর আস্থার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এখানে আর কেউ টাকা রাখতে চাইছেন না। সাধারণ মানুষের মধ্যে আর্থিক খাতের উপর একটি শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কিন্তু সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানই যে খারাপ অবস্থায় রয়েছে বিষয়টা এমন নয়। এখাতের অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা অনেক ব্যাংকের চেয়েও ভাল করছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বেশকিছু প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ব্যক্তি পর্যায়ে বড় অঙ্কের আমানত এবং প্রাতিষ্ঠানিক আমানত ফেরত দিতে পারছে না। বিআইএফসি, ফার্স্ট ফাইন্যান্স ও এফএএস ফাইন্যান্সের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে অনেক অভিযোগ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নতুন আমানত না পাওয়ায় এর কোনো সুরাহা করতে পারছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। যদিও সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থা খারাপ নয়। অনেক প্রতিষ্ঠান কিছু ব্যাংকের চেয়েও সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছে।

ব্যাংকগুলো গ্রাহকের কাছ থেকে চলতি, সঞ্চয়ী, মেয়াদিসহ সব ধরনের আমানত নিতে পারে। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তিন মাসের কম মেয়াদে কোনো আমানত নিতে পারে না। পরিচিতি কম থাকায় উচ্চ সুদ দিয়েও প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানত পেতে হিমশিম খেতে হয়। তাদের প্রাতিষ্ঠানিক আমানতের ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়। যার বড় অংশ আসে ব্যাংক থেকে। তবে এখন ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটের কারণে নতুন করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা রাখতে চাইছে না। এর প্রভাবে কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান আগের নেওয়া আমানতও ফেরত দিতে পারছে না।

উল্লেখ, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা আর লুটপাটের অভিযোগে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান-পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসকে (পিএলএফএসএল) প্রথমবারের মতো অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের ১৪ জুলাই পিপলস লিজিং অবসায়নের জন্য আদালতে মামলা দায়ের করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এছাড়া অনিয়মের দায়ে বহিষ্কার করা হয় প্রতিষ্ঠানের ৯ পরিচালককে। এদিকে পিপলস লিজিং বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন আমানতকারীরা। তাদের আমানত ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আমানতকারীরা ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই টাকা ফেরত পেতে অর্থমন্ত্রী ও গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন। কিন্তু এখনও কোনো সুরাহা হয়নি।