স্টাফ করেসপন্ডেন্ট।।ক্যাপিটালমার্কেট২৪.কম

ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০

খেলাপিঋণ বৃদ্ধিতে শীর্ষে ব্র্যাক ব্যাংক

নানা প্রক্রিয়ায় কমে এসেছে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ। ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট-এর মাধ্যমে ঋণ পুনঃতফসিল, ঋণ অবলোপনসহ বিভিন্নভাবে মন্দ ঋণ কমিয়েছে অধিকাংশ ব্যাংক। কিন্তু এর মধ্যেও কয়েকটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এই তিন মাসের ব্যবধানে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৪১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ব্র্যাক ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ছিল ৭৫৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। তবে তিন মাসের ব্যবধানে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রান্তিকেও খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পাওয়া মোটেও মঙ্গলজনক নয়। তবে এক বছর আগে ব্যাংকটির খেলাপি ছিল ৬৭৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। সুতরাং এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির খেলাপি বেড়েছে ২৩৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসাইন জানান, এ বছরে অধিকাংশ ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ নিয়েছে। সে কারণেই তাদের খেলাপি কমে এসেছে। কিন্তু আমাদের ব্যাংকের পলিসি অনুযায়ী আমরা রিসিডিউল বা ঋণ পুনঃতফসিল করি না। আমরা সঠিকভাবে যা দেখানোর সেটাই দেখাবো।

গত বছরের কয়েক মাসে খেলাপি ঋণ ক্রমাগতভাবে বাড়তে থাকায় সেপ্টেম্বর শেষে সমগ্র ব্যাংকিং খাতে এটি পৌঁছেছিল ১ লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকায়। তবে ডিসেম্বর শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণের ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। তিন মাসের ব্যবধানে কমে এসেছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ। এক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধায় ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ নিয়েছে অধিকাংশ ব্যাংক। তারপরেও এই তিন মাসে মন্দ ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকটি ব্যাংকের। তাদের মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকসহ প্রথম সারিতে রয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক এবং এইচএসবিসি।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যাংকিং খাতে আইনি শিথিলতা, অবলোপন নীতিমালায় ছাড়, ঋণ পুনঃতফসিল ব্যবস্থা, স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা সহ দেওয়া হয়েছে আরও অনেক বিশেষ সুযোগ। এসব সুবিধায় প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। ফলে এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ কমে প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যাংকগুলোর তুলনায় বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম জানান, ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায় কার্যক্রম জোরদার করায় এবার খেলাপি ঋণ কমে এসেছে। তবে খেলাপি কমাতে বিশেষ ছাড়ের পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিট সুবিধা কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।