স্টাফ করেসপন্ডেন্ট।।ক্যাপিটালমার্কেট২৪.কম

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০

নিজ ব্যাংকের শেয়ার কিনতে আহ্বান

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকিং খাতের উদ্যোক্তাদেরকে নিজ নিজ ব্যাংকের শেয়ার কেনার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক ও সাবেক প্রেসিডেন্ট মোঃ রকিবুর রহমান। অর্থসূচকের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় সোমবার তিনি এ আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে রকিবুর রহমান বলেন, সরকার পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। পুঁজিবাজারের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে ৬ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন নির্দেশনার বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর উদ্যোক্তাদেরও  এগিয়ে আসা উচিত। তাদের উচিত নিজ নিজ ব্যাংকের শেয়ার কিনে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানোয় সহায়তা করা।

তিনি বলেন, ব্যাংকের উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা প্রায়ই দাবি করেন, তারা ব্যাংকিং খাতকে ভালোভাবে পরিচালনা করছেন। তাদের ব্যাংকের অনেক উন্নতি হচ্ছে। সত্যিই যদি তা হয়ে থাকে তাহলে তাদের উচিত বেশি বেশি করে নিজ ব্যাংকের শেয়ার কেনা। ব্যাংকের সার্বিক অবস্থা যদি ভাল হয়ে থাকে তাহলে বর্তমান মূল্য অনুসারে এসব শেয়ার একেবারেই শস্তা। এমন দামে এসব শেয়ার কিনতে তাদের দ্বিধা থাকার কথা নয়। তাছাড়া একটি ভাল ব্যাংকের শেয়ারের এই দাম তার ‘সুনামের’ সাথে মানানসই নয়।

রকিবুর রহমান বলেন, ব্যাংকের উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা যদি শেয়ার না কেনেন তাহলে ধরে নিতে হবে ব্যাংকের মধ্যে গলদ আছে। ব্যাংকের অবস্থা ভাল বলে তারা যে দাবি করেন তা সত্য নয়।

তিনি বলেন, ২০০৯/১০ সালে চাঙা বাজারে ব্যাংকের অনেক উদ্যোক্তা ও পরিচালক ১০ টাকা দামের শেয়ার ৫০ টাকার উপরে, এমনকি ১৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। তাহলে এখন ৮ টাকা/১২ টাকায় কিনবেন না কেন-এই প্রশ্ন রাখেন তিনি।

ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান সম্প্রতি ঘোষিত বিশেষ তহবিলকে অনেক সুচিন্তিত বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, বাজারে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে এই প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিশেষ তহবিলের অর্থ ভাল শেয়ারে বিনিয়োগ করতে একদিকে নীতিমালায় বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে; অন্যদিকে দীর্ঘ মেয়াদি বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে কিছু আইনী শর্ত নমনীয় করা হয়েছে।

বিশেষ তহবিলকে ব্যাংকের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ গণনা থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। এক্সপোজারের মধ্যে থাকলে শেয়ারের দাম বেড়ে গেলে ব্যাংককে শেয়ার বিক্রি করে এক্সপোজার সমন্বয় করতে হয়। ফলে বাজারে বিক্রির চাপ বাড়ে। অন্যদিকে এই বাধ্যবাধকতার কারণে ব্যাংক বিনিয়োগকারী না হয়ে ট্রেডারে রূপান্তরিত হয়।

অন্যদিকে ৫ বছর পর্যন্ত বিশেষ তহবিলের বিনিয়োগে সঞ্চিতির বাধ্যবাধকতা স্থগিত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এ সময়ে বিনিয়োগ করে লোকসান হলেও তার বিপরীএ কোনো সঞ্চিতি রাখতে হবে না বলে ব্যাংকগুলো অনেকটা চাপমুক্ত থাকতে পারবে।

তিনি বিশেষ তহবিল সম্পর্কে পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদেরকে আরও দায়িত্বশীল বক্তব্য রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিশেষ তহবিলের বিষয়টি অনেক সুচিন্তিত। তবে রাতারাতি এর সব সুফল পাওয়া যাবে না। একটু সময় লাগবে। এ সময়টুকু দিতে হবে। কিন্তু এ বিষয়ে অযৌক্তিক সমালোচনা বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করতে পারে।

তিনি সূচক একটু বেশি পরিমাণে বাড়লে ‘উল্লম্ফন’ শব্দটি ব্যবহার না করে গণমাধ্যমে অন্য কোনো শব্দ ব্যবহার করা যায় কি-না তা খুঁজে দেখার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, মূল্যসূচক অনেক বেশি কমে গিয়েছিল। তাই বৃদ্ধির সময় একটু বেশ বাড়তেই পারে। কিন্তু সূচক এখনও যৌক্তিক পর্যায়ের চেয়ে অনেক নিচে আছে।

সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা ও সমন্বিত চেষ্টায় দেশের পুঁজিবাজার অর্থনীতির বড় চালিকাশক্তিতে পরিণত হবেবলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ৬দফা নির্দেশনা, সরকারি কোম্পানির শেয়ার ছাড়ার উদ্যোগ, বন্ড মার্কেটের জন্য নীতি সহায়তা, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তহবিল ইত্যাদি বিষয় থেকে বুঝা যাচ্ছে সরকার পুঁজিবাজারকে শিল্পায়নের অর্থ যোগানোর প্রধান উৎসে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছে, টেকসই উন্নয়নের জন্য যা খুবই জরুরী।