মায়াবতী মৃন্ময়ী, অতিথি লেখক

অক্টোবর ২২, ২০১৮

আজাদ হিন্দ ফৌজ’র ৭৫ বছর

দখলদার ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের কবল থেকে দেশমাতৃকার স্বাধীনতা ও মুক্তির জন্য উপমহাদেশের ভেতরে ও বাইরে শত শত আন্দোলন হয়েছে। লাখো শহিদের আত্মদান ও সংগ্রামের রক্তাক্ত রণাঙ্গন পেরিয়ে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে এসেছে রাজনৈতিক স্বাধীনতার অনির্বাণ সূর্য।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাসে অম্লান হয়ে আছে ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’র ত্যাগদীপ্ত নাম। দেশনায়ক নেতাজি সুভাষ বসু অসীম সাহসে গড়ে তুলে ছিলেন এই যোদ্ধা বাহিনী, যারা ভারতের স্বাধীনতার জন্য ব্রিটিশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

২য় বিশ্বযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে নেতাজি চেয়েছিলেন যুদ্ধের মাধ্যমে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে স্বাধীনতা অর্জন করতে। উত্তর-পূর্ব ভারত দিয়ে তাঁর নেতৃত্বে আজাদ হিন্দ ফৌজের আক্রমণ ব্রিটিশ দখলদারদের ভিড় কাঁপিয়ে দিয়েছিল। উপমহাদেশের স্বাধীনতাকে করেছিল ত্বরান্বিত।

নেতাজির আত্মীয় ও ‘নেতাজি রিসার্স ইনস্টিটিউট’র কর্মকর্তা, অধ্যাপক কৃষ্ণা বসু এক প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘দেশের জন্য সংগ্রামে সকল সম্প্রদায়ের মানুষই ছিলেন। গৌরবময় ভূমিকা পালন করেছিল নেতাজির নেতৃত্বাধীন আজাদ হিন্দ ফৌজ।’

অধিনায়ক নেতাজি সুভাষ বসুর পরেই আজাদ হিন্দ ফৌজের ফার্স্ট বিগ্রেডের অধিনায়ক ছিলেন জামান কিয়ানী, যিনি ঈম্ফলের যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন । মনিপুরের ময়রাংয়ে পৌঁছে প্রথম ভারতের তেরঙ্গা ঝান্ডা উড়িয়েছিলেন শওকত মালিক। আরও ছিলেন শাহনওয়াজ খানের মতো বীর অফিসার। নেতাজির সব সময়ের সঙ্গী ছিলেন আবিদ হাসান। তাঁর শেষসঙ্গীও ফৌজের অফিসার হবিবুর রহমান ।

আজাদ হিন্দ ফৌজ’র আরেক গুরুত্বপূর্ণ অফিসার মেহেবুব আহমেদ স্বাধীনতার পরে গান্ধীজী ও পণ্ডিত নেহরুর সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে কাজ করেছিলেন । মেহেবুব আহমেদ তাঁর স্মৃতিকথায় জানান যে, তাঁর পরম সৌভাগ্য এত সব মহৎ নেতাকে কাছ থেকে দেখেছেন ।

তিনি বলেছিলেন, ‘তবু যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করো তবে আমি বলবো , শুধুমাত্র একজনের জন্যেই আমি একবার কেন শতাধিকবার প্রাণ বিসর্জন দিতে প্রস্তুত, সেই একজন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু’।

মেহেবুব আহমেদের এই উক্তি থেকে বুঝতে পারা যায় যে, কতখানি ঐক্য, ত্যাগস্পৃহা, দেশপ্রেম ও আনুগত্য নেতাজির অনুসারী আজাদ হিন্দ ফৌজ’র সদস্যদের মধ্যে গড়ে উঠেছিল। রবিবার (২১শে অক্টোবর) উপমহাদেশের সংগ্রামী ঐতিহ্যের প্রতীক ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’র প্রতিষ্ঠার ৭৫তম বর্ষ ।