স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ।।ক্যাপিটালমাকের্ট২৪.কম

মার্চ ১২, ২০১৮

লালদীঘি মাঠে বিএনপির জনসভা বৃহস্পতিবার

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন। তারপর থেকে দলের শীর্ষনেতার মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি।কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি মাঠে জনসভার আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি। বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) এ জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে চট্টগ্রাম সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে লালদীঘি মাঠ ব্যবহারের অনুমতি মিলেছে। রোববার (১১ মার্চ) বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল নগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বিএনপি নেতাদের মতে, জনসভা আয়োজনে সহযোগিতা করবে পুলিশ প্রশাসন।

সূত্র জানায়, বিগত সময়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সব জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। অথচ এবার তিনি কারাগারে। তার মুক্তির দাবিতেই জনসভার আয়োজন। তবে জনসভায় দলের সভানেত্রী উপস্থিত না থাকলেও সব নেতা-কর্মীর অন্তরে স্থান রয়েছে তার।

তারই অংশ হিসেবে জনসভায় বেগম খালেদা জিয়ার জন্য প্রধান অতিথির আসন বরাদ্দ থাকবে। জনসভায় কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকলেও খালেদা জিয়ার চেয়ারটি শূন্য থাকবে। নগর বিএনপির শীর্ষস্থানীয় একজন নেতা বিষয়টি জানিয়েছেন।

দলের একজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, বৃহস্পতিবারের জনসভায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত থাকবেন। বৃহস্পতিবার সকালেই তারা চট্টগ্রাম আসবেন। জনসভা শেষে রাতের ফিরে যাবেন।

জনসভার প্রস্তুতির বিষয়ে নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, জনসভার প্রস্তুতি চলছে। আমরা আশা করছি বৃহস্পতিবারের জনসভায় মানুষের ঢল নামবে। নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে আমরা ১৪ ও ১৫ মার্চ লালদীঘি মাঠ ব্যবহারের অনুমতি নিয়েছি। আশা করছি পুলিশ প্রশাসনও আমাদের সহযোগিতা করবে।

এদিকে লালদীঘি মাঠে ১৫ মার্চের জনসভা সফল করতে রোববার (১১ মার্চ) বিকেলে প্রস্তুতি সভা করেছে বিএনপি। নগরীর মেহেদিবাগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বাসায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার। বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সহসভাপতি এমএ আজিজ, উত্তর জেলা বিএনপি সাবেক সহসভাপতি চাকসু ভিপি মো. নাজিম উদ্দিনসহ নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, সরকার অন্যায়ভাবে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় বেগম জিয়াকে কারাগারে বন্দী করে তার প্রতি অমানবিক আচরণ করছে। সরকারি ষড়যন্ত্রে বেগম জিয়ার জামিন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করে তাকে মানসিকভাবে দুর্বলের অপচেষ্টা চলছে। কিন্তু শত ষড়যন্ত্রেও বেগম জিয়ার মনোবল দুর্বল করতে পারেনি। তিনি নেতা-কর্মীদের সরকারের উসকানিতে পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

আবুল হাশেম বক্কর বলেন, বেগম জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে ডাকা বৃহস্পতিবারের জনসভায় সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামবে। আমরা জনসভা সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপির নেতাদের সঙ্গে প্রস্তুতি সভা করে জনসভায় সুশৃঙ্খল এবং শান্তিপূর্ণভাবে অংশ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছি।